গাইবান্ধার ফুলছড়িতে নদীভাঙনের শিকার আংগারিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থানান্তর নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। জিয়াডাংগা চরের নির্জন বালুচরে একটি টিনের ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান চলছে। খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনিশ্চয়তায় পড়েছে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা।
ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ১৯৪৬ সালে আংগারিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টি অন্তত ১২ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনের পর গজারিয়া ইউনিয়নের আংগারিদহ এলাকায় বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপন করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের বন্যা ও নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি আবারও স্থানান্তর করতে হয়। যমুনার ভাঙনের মুখে ভবন, শিক্ষা উপকরণ, চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ ও টিনের চালা খুলে পাশের জিয়াডাংগা চরের এক কোণে নিয়ে স্থাপন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয়টি জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নির্জন বালুচরের এক কোণে স্থাপন করেছে। এ নিয়ে স্থানীয় অনেকে আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, কয়েকটি পরিবার ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় শিক্ষকরা জিয়াডাংগা চরের ওই স্থানে ছাপড়া তুলে পাঠদান শুরু করেন। অন্যদিকে, জিয়াডাংগা চরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয়টি স্থাপন না করায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দুটি পক্ষের শক্তি প্রদর্শনের কারণে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদেরও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে। একটি টিনের ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান করায় স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। উত্তপ্ত বালুচর ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে জটিলতার মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ উপজেলা শিক্ষা কমিটির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জিয়াডাংগা মসজিদের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয়টি স্থাপনের সুপারিশ করেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয়টি সেখানে স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে বালুচরের একটি ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান চলছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী থান খুশু বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টি জিয়াডাংগা মসজিদের পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।